পুকুর খননের বিরুদ্ধে কৃষকদের প্রতিবাদ দিন দিন তীব্র হচ্ছে। দুর্গাপুর ও মোহনপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। গত ১৭ ডিসেম্বর মোহনপুর উপজেলার বারোপালশা গ্রামে অবৈধ পুকুর খননের প্রতিবাদ করতে গিয়ে ভূমিদস্যুদের এক্সকেভেটরের আঘাতে কৃষক জুবায়ের আহমেদ (২৭) নিহত হন। এ ঘটনায় মামলা হলেও প্রকৃত অপরাধীরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।
কৃষক ও বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তাদের অভিযোগ, রাজশাহীতে বিপুলসংখ্যক অবৈধ পুকুর ও শতাধিক অবৈধ ইটভাটা রয়েছে, যা প্রশাসনের নজরদারির বাইরে চলছে। মোহনপুরের বিদিরপুর এলাকার কৃষক মমিন প্রামাণিক বলেন, ‘প্রশাসনের ছত্রছায়ায় এসব অবৈধ কাজ হচ্ছে।’
পবা উপজেলার কৃষকরা জানান, অধিক মুনাফার লোভে অনেক জমির মালিক পুকুর খননের অনুমতি দিচ্ছেন। ধান চাষের তুলনায় মাছচাষে খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ায় প্রভাবশালীরা এ সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাদের কাছেও পুকুর খননের দালালি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গোদাগাড়ীর ফুলবাড়ি গ্রামের কৃষক সৈয়দ হোসেন বলেন, ‘তিন বিঘা জমিতে ধান চাষ করে বছরে যেখানে ৪০ হাজার টাকা পাওয়া যায়, সেখানে একই জমি পুকুর হিসেবে লিজ দিলে ৮০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। তাই অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে জমি লিজ দিচ্ছেন।’
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান জানান, রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলে অবৈধ পুকুর খনন আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিলের মাঝখানে পুকুর করলে আশপাশের জমি জলমগ্ন হয়ে পড়ে। চাষাবাদ অসম্ভব হয়ে যায়। এসব প্রতিরোধের দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনের।’
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বিচারে পুকুর খননের ফলে উর্বর মাটির উপরের স্তর ধ্বংস হচ্ছে। জমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে, প্রাকৃতিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার বলেন, ‘কৃষি ও মৎস্য কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পুকুর খননের অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে অনুমতি ছাড়াই কোথাও পুকুর খননের অভিযোগ পাওয়া গেলে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ও রাতের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’
